ক্রীড়া প্রতিবেদক : আজ ক্রিকেট কোচিং স্কুলের বিপক্ষে ৯ বছর পর লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন শাহরিয়ার নাফীস। সবশেষ ২০০৭ সালে অ্যান্টিগায় ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলের হয়ে বারমুডার বিপক্ষে ১০৪ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছিলেন এই বাঁহাতি। তার সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৮ রানের দারুণ এক জয় পায় ব্রাদার্স ইউনিয়ন।
ম্যাচশেষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ প্রিয়আলোর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল:
প্রশ্ন : ব্যাটিংটা কেমন উপভোগ করলেন?
নাফীস : কোচ বলেছিলেন টপ ফোরের যে কোন একজন ব্যাটসম্যান সর্বোনিম্ন ৪৫ পর্যন্ত খেলতে। তো ওটাই ফলো করার চেষ্টা করেছি। টিমের যে প্লান ছিলো ওই অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করছি।
প্রশ্ন : রানের ধারাবাহিকতায় আছেন, সে ধারায় কি সেঞ্চুরি?
নাফীস : আমার চেষ্টা ছিল। তাছাড়া আগের যে তিনটা ম্যাচে শুরু করে শেষ করতে পারিনি, আমার লক্ষ্য ছিল এবার যদি ভালো শুরু করতে পারি তাহলে সেটা চালিয়ে যাবো। আর টিমের যে পরিকল্পনা ছিল ওটা আমাকে ব্যাটিং করতে সাহায্য করেছে।
প্রশ্ন : সামনের ম্যাচেগুলোতে বিশেষ কোন লক্ষ্য আছে কী?
নাফীস : আমি দুইটা জিনিস চেষ্টা করব। একটা হলো, যদি শুরু করতে পারি, তাহলে সেটাকে চালিয়ে যাওয়ার; এটা হচ্ছে ব্যাক্তিগত পরিকল্পনা। আর একটা হচ্ছে, টিমের যে পরিকল্পনা থাকে ওই অনুযায়ি ব্যাটিং করা।
প্রশ্ন : আপনার ফিটনেসের উন্নতি হচ্ছে, এর রহস্যটা কী?
নাফীস : আসলে সময়ের সাথে সাথে খেলাটা অনেক এগিয়েছে। আমাকে নিয়ে অভিযোগ ছিলো যে, আমি ফিটনেসটার দিক থেকে একটু দূর্বল। তো আমি চিন্তা করেছিলাম ক্যারিয়ার লম্বা করতে হয় এবং ভালো ক্রিকেট খেলতে হয়। এখন ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে, ফলে এটার কোন বিকল্প ছিল না। দুই তিন বছর ধরে চেষ্টা করছি ফিটনেসটাকে সময়ের সাথে সাথে আরো উন্নত করার। তবে আলহামদুলিল্লাহ গত এক বছরে অনেক উন্নতি হয়েছে।
প্রশ্ন : ক্যারিয়ার লম্বা করে জাতীয় দলে আসার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী আপনি?
নাফীস : আমার টার্গেট থাকবে পারফরমেন্স করা। সিলেকশন তো আর আমি করি না। সিলেকশন করে সিলেকটররা আর বোর্ড। আমি যদি ঘরোয়া ক্রিকেটের চারটে টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকভাবে পারফরমেন্স করতে পারি এবং সাথে যদি জাতীয় দলের ওই জায়গাটা খালি হয়, তাহলে একটা সুযোগ আসবে। কিন্তু আমি যদি পারফর্ম না করতে পারি তাহলে কোনদিনই সুযোগ আসবেনা। তাছাড়া এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে যে পরিমাণ ম্যাচ হয় আর সেখানে যে পরিমাণ অর্থ জড়িয়ে আছে, তাতে অনেক প্লেয়ার আছে যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে না, কিন্তু তারা সুপারস্টার। যেমন আইপিএল খেলে। ক্যারিয়ারটা লম্বা করা এই চিন্তা থেকে। আর পারফরমেন্স যদি ভালো থাকে আমি বিশ্বাস করি সুযোগ আসেবে। আর সুযোগ যদি না আসে তাহলে এই যে ভালো খেলছি এতেই আমি খুশি থাকতে পারবো।