01

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি সংগঠিত প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় এই সরকারকেই নিতে হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘সরকার প্রধান যতই উচ্চস্বরে বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করুন না কেন তাভেল্লা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় এবং রুস্তম আলী পর্যন্ত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের দায় এই সরকারকেই নিতে হবে।’

 

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

 

রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বী তনয়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং কাশিমপুর কারাগারের সামনে প্রাক্তন সর্বপ্রধান কারারক্ষী রুস্তম আলীকে গুলি করে হত্যার প্রেক্ষিতে বিএনপি নেত্রী এই বিবৃতি পাঠান।

 

এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘কিছুদিন ধরে দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্ম সম্প্রদায় ও বিদেশি হত্যার ঘটনায় তারা একের পর অপপ্রচার চালিয়েছে। বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে। ভোটারবিহীন সরকারের এই সমস্ত অপকৌশল মূলত প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া ও আসল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা।

 

‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যতই উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করুন না কেন, জাতীয় অর্থনীতির হরিলুট, রাজকোষ চুরির ঘটনা এড়াতে তিনি যতই অপকৌশল করুন না কেন, জনগণের দৃষ্টিকে ঝাপসা করতে পারবেন না। তার অপকৌশল বাস্তবায়ন করতে তিনি যতই দূষিত পরিকল্পনা করুন না কেন, ভোটারবিহীন সরকারকেই এরজন্য জনগণের নিকট একদিন জবাবদিহি করতেই হবে।’ বলেন বিএনপি প্রধান।

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের অধিকার, ভোটাধিকার, নির্বাচন, গণতন্ত্র, শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা এখন লাশবাহী গাড়িতে। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার সহিংস রক্তপাত ঘটানো ছাড়া তাদের টিকে থাকার অন্য পথ খোলা নেই। দেশ পরিচালনায় যেহেতু জনগণের সমর্থন নেই, সেহেতু খুন-জখম টিকিয়ে রাখাকেই তারা পরিত্রাণের পথ মনে করছে।’

 

‘দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে এখন আরো বিপজ্জনক’ মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এক ভয়াল নৈ:শব্দের মধ্যে আতঙ্কে দিন যাপন করছে।

 

‘ব্যাংকার, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, ছাত্র, নারী, শিশুসহ অনেককেই রাষ্ট্রযন্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে জীবন দিতে হয়েছে। সরকার সর্বক্ষেত্রে একচেটিয়াত্ত প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে গণতন্ত্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ভারসাম্যকেও চরমভাবে ভেঙে ফেলেছে। সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ নিরপেক্ষতা হারিয়েছে।’

 

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য। গোটা দেশবাসী ঘরে-বাইরে আজ আর নিরাপদ নয়। রাষ্ট্রক্ষমতা  জবরদখলকারীরা বিরোধী দল দমনে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করার কারণেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ায় বিভিন্ন অপকর্ম ও হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসীরা আরো বেশি মাত্রায় উৎসাহিত হচ্ছে।’

 

দেশকে সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে রক্ষা করতে জনগণের ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন বিএনপি মহাসচিব।