লিটারে ১৪ টাকা কমার পরও সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই তেলের দাম নিচ্ছে। ৭ দিন আগে তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দেয় সরকার।

শনিবার (২৩ জুলাই) সিলেটের বিভিন্ন খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দাম কমানোর সিদ্ধান্ত কোথাও কার্যকর হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামের অজুহাতে ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (মিল মালিক) সয়াবিন তেলের দাম কয়েক দফা বাড়ায়। এক লাফে প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা বাড়ানো হয়। বাধ্য হয়ে বিশ্ববাজারে দাম কমলে রোববার (১৭ জুলাই) লিটারে ১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় সরকার ও মিলমালিকরা।

সিলেটের ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় বড় বাজার ও পাইকারি বাজার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বিক্রেতারা যে যার মতো দামে তেল বিক্রি করছে। বিক্রেতারা এখনো আগের দামেই রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের ৫ লিটার তেল ৯৩০ থেকে ৯৮০ টাকা, ২ লিটার ৩৮০ ও এক লিটার ১৯৫ টাকা বিক্রি করছে। তবে পাইকারি বাজারে নতুন দামের তেল শনিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত সিলেটে পৌছায়নি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

নগরীর বন্দরবাজারে সদাই করতে আসা সুহেল আহমদ বলেন, সরকার যখন তেলের দাম বাড়ায়, তখন ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়িয়ে দেন। মুহূর্তে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। তখন তো আর ব্যবসায়ীরা বলেন না, নতুন মাল সরবরাহ করলে বাড়তি দামে বিক্রি করা হবে। তখন তো মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা স্টক করা মালেও দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন। তাহলে এখন কেন অজুহাত দেখিয়ে সয়াবিনের দাম কমিয়ে রাখছেন না।

টুকেরবাজারের সয়াবিন কিনতে আসা আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমরা কমে কিনতে পারছি না। তাহলে দাম কমে লাভ কী?’ ক্রেতারা বলছেন, দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে বাজার মনিটরিং করা জরুরি। ঠিক মতো অভিযান পরিচালনা করা হলে তবেই ব্যবসায়ীরা সঠিক দামে জিনিসপত্র বিক্রি করবেন। নতুবা ভোক্তাদের ভোগান্তি রয়েই যায়।

এদিকে সিলেটের প্রধান পাইকারি বাজার কালীঘাটে এখনো নতুন নির্ধারিত মূল্যের সয়াবিন তেল সরবরাহ হয়নি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

বাংলাদেশ এডিবল অয়েল (রূপচাঁদা তেল) সিলেটের পরিবেশক সিলেট ভোগ্যপণ্য পরিবেশক গ্রুপের সাবেক সভাপতি হুরায়রা ইফতার হোসেন বলেন, ‘আমার নিজের কাছে বিপুল পরিমাণ আগের দামের সয়াবিন তেল রয়েছে। আমি কোম্পানিকে বলেছি— আগের দামের তেল ফিরিয়ে নিতে। এর জন্য দুই দিন সময় বেঁধে দিয়েছি। এর মধ্যে ফিরিয়ে না নিলে আমাকে বর্তমান দামেই বিক্রি করতে হবে।’

তিনি জানান, অনেকের কাছে স্টক রয়েছে, তারা বিপাকে পড়েছেন। নতুন মূল্যের তেল এখনো সিলেটে সরবরাহ হয়নি বলে জানান তিনি।

হুরায়রা ইফতার হোসেন বলেন, কোম্পানি সেক্রিফাইস না করলে হয়তো ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতি মেনে নিতে হবে।