বাংলাদেশ রেলওয়ের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ৭ জুলাই থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি ও সঙ্গীদের কমলাপুর স্টেশনে প্রবেশ করতে দেয়নি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে মূল ফটকের সামনে বসেই অবস্থান নিয়েছেন তারা। এ সময় সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তৈরি হয়।
শুক্রবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সহপাঠীসহ প্রবেশের চেষ্টা করেন তিনি।
এদিকে আগেই তার কর্মসূচির খবর পেয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার ও রেলওয়ে থানা পুলিশের সদস্যরা। পরে রনি স্টেশনে প্রবেশেনর চেষ্টা করলে নিরাপত্তা কর্মীরা মূল ফটক তাকে আটকে দেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা, হাতাহাতি, নৈরাজ্যের ঘটনা ঘটে। পরে, মূল ফটকের সামনেই সহপাঠীসহ অবস্থান নেন রনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় রেলওয়ের যাত্রীরা ঢুকতে না পেরে রেলওয়ের মূল ফটকের রেলিংয়েরর ফাঁক-ফোকড় দিয়ে প্রবেশ করতে থাকেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রনি বলেন, আমরা মূলত শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছি। আমাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এতে আমার মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে মনে করি।
এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, মূল ফটকে তারা যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তাহলে ফটক কেন বন্ধ করেছেন- এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন তারা।
এর আগে, গতকাল (২১ জুলাই) স্টেশনে প্রবেশের সময়ও রনির সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে, রাত ১২টা পর্যন্ত শাহবাগে অবস্থান করেন তারা। পরে, আজ ফের কমলাপুরে অবস্থান নেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে রেলওয়ের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি নিয়ে ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেনিএই ঢাবি শিক্ষার্থী। এরই জের ধরে প্রথমে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তিনি। পরে, রেলওয়ের ই-টিকেটিং পার্টনার সহজডটকমকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় প্রথমে একক অবস্থান করলেও পরে দেশব্যাপী তা ছড়িয়ে পড়ে।
যেসব দাবিতে রনি কর্মসূচি চালাচ্ছেন-
১. টিকিট ব্যবস্থাপনায় সহজ ডটকমের হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; হয়রানির ঘটনায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. যথোপযুক্ত পদক্ষেপের মাধ্যমে টিকিটের কালোবাজারি প্রতিরোধ করতে হবে।
৩. অনলাইনে কোটায় টিকিট ব্লক করা বা বুক করা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে অনলাইন-অফলাইনে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সর্বসাধারনের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. যাত্রী চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।
৫. ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক ও তত্ত্বাবধায়কসহ অন্য দায়িত্বশীলদের কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিক মনিটর, শক্তিশালী তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে রেল সেবার মান বাড়াতে হবে।
৬. ট্রেনে ন্যায্যমূল্যে খাবার বিক্রি, বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।