বরগুনা প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বরগুনায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। মনোনয়নবঞ্চিত কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বরগুনা সদরের ঢলুয়া ইউনিয়নে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল হোসেন খান অভিযোগ করেন, তিনি তৃণমূলের ভোটে জয়ী হলেও জেলা নেতারা তাঁর নাম অদৃশ্য কারণে কেন্দ্রে পাঠাননি।

একইভাবে আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মতামত না নিয়েই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা তাঁর নাম বাদ দিয়ে আরেকজনের নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন।
আঠারোগাছিয়ায় তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান বারেক তালুকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তৃণমূলের মতামত না নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এখানে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদককে মনোনয়ন দিয়েছেন। এ মনোনয়ন প্রত্যাহার করা না হলে তাঁরা তিনজন এককাট্টা হয়ে একজনকে প্রার্থী করবেন বলে জানান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের মতামত নিয়ে প্রার্থীর তালিকা জেলায় পাঠিয়েছি। আঠারোগাছিয়ায় যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাঁর গোটা পরিবার আওয়ামী লীগ করে।’
পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানি, রায়হানপুর ইউনিয়ন ও বেতাগীর ডৌয়াতলা ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। রায়হানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভোটাভুটিতে তিনি সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার পর উপজেলার নেতারা তাঁর নাম ঢাকায় পাঠান। সেখানে এলাকার সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান তাঁর নাম বাদ দিয়ে নিজের অনুগত বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া আরেকজনকে মনোনয়ন দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বামনার ডৌয়াতলা ইউনিয়নে তৃণমূল ভোটে মিজানুর রহমান জয়ী হওয়ায় তাঁর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র থেকে সেটা পাল্টে যায়। মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান তাঁর মনোনয়ন ঘুরিয়ে দিয়েছেন। তবে সাংসদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পাথরঘাটার চরদুয়ানিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূলের ভোটে তিনি ও অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী সমানসংখ্যক ভোট পান। দুটি ব্যালট বাতিল করা হয়।
পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি ভোট তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে দিয়ে তাঁকে জয়ী দেখিয়ে ঢাকায় নাম পাঠান। এ ঘটনায় ১৭ ফেব্রুয়ারি পাথরঘাটা শহরে হরতাল করেন তাঁর সমর্থকেরা। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে সব কটি ইউনিয়নের প্রার্থী তালিকা ঢাকায় পাঠিয়েছি। কিন্তু ঢাকা থেকে পাথরঘাটার রায়হানপুর ও বামনার ডৌয়াতলা ইউপির মনোনয়ন বদল করা হয়েছে।
শোনা যায়, এলাকার সাংসদ এটা করেছেন। আঠারোগাছিয়ায় যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি কোনো একসময় আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’