আন্তর্জাতিক ডে06স্ক : বিরোধপূর্ণ নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে হঠাৎ যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করছে দেশ দুটি। শুক্রবার রাতে দুই দেশের সামরিক বাহিনী তুমুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

 

আজারবাইজান দাবি করেছে, আর্মেনিয়া সেনাবাহিনী তাদের ১২ সেনাকে হত্যা করেছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি আর্মেনিয়া। উল্লেখ্য, আলজেরিয়ার নাগরিকদের আজেরি বলা হয়।

 

আলজাজিরা অনলাইনের এক খবরে শনিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আর্মেনিয়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাদের ১২ সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আর্মেনীয় সেনারা আজারবাইজানের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। তবে বিবৃতিতে এ-ও দাবি করা হয়েছে, কারাবাখের কৌশলগত দুটি উপত্যকা এবং একটি গ্রাম তাদের সেনারা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

 

এদিকে এর আগে আর্মেনিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আর্টসরুন হোভহানিশিয়ান তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী আজারবাইজানের একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। কিন্তু আজারবাইজান তা প্রত্যাখ্যান করে।

 

হোভহানিশিয়ান আরো বলেন, সেখানে এখনো যুদ্ধ চলছে। আর্মেনীয় সামরিক বাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বিরোধী পক্ষের লোকজন ও যুদ্ধসরঞ্জাম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের আহ্বান
নাগরনো-কারাবাখে যুদ্ধ বন্ধের জন্য উভয় দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ সংবাদ সংস্থাগুলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

ইউরোপ ও এশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে ককেসাস বলা হয়। ককেসাসের পাহাড় ও বনাঞ্চলে ঘেরা উচ্চভূমির বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত নাগরনো-কারাবাখ। অঞ্চলটি আজারবাইজানের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তবে নাগরনো-কারাবাখ রিপাবলিক নামে আন্তর্জাতিকভাবে অস্বীকৃত একটি সরকার এ অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

 

নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯১ সালে পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে এ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এলাকটি আর্মেনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে চয়ে যায়। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছে। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কয়েক দফায় আলোচনা হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি আজো।