আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে রমজান সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের মাস হয়ে এসছে। এই রমজান মাসে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি হয়ে আছেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিথ্যা মামলার সাজা মাথায় নিয়ে দেশের বাইরে নির্বাসিত। বিএনপির প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা এবং অসংখ্য নেতাকর্মী এখনো কারাগারে রয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি আয়োজিত (দলীয় কার্যালয়ে) দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, সহ সভাপতি আল মামুন, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফসহ বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আওয়ামী লীগের অপরাধ ক্ষমা করবার নয়। এরা বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সংবাদ মাধ্যমকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা এবার সংবাদকর্মীদের নিয়ে আইন করতে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, গত একযুগ ধরে কর্তৃত্ববাদী একনায়কতন্ত্র দ্বারা দেশের মানুষকে অতিষ্ট করে তুলেছে সরকার। সম্প্রতি ঢাকা কলেজের ছাত্র ও নিউমার্কেট ব্যাবসায়ীদের সংঘর্ষে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তারা সবাই সরকারি দলের ছাত্রলীগের নেতা। তারা এই সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছে। অথচ পুলিশ এ ঘটনায় আসামি করেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। যারা খুন করেছে তাদের এখনো গ্রেপ্তার করেনি। অথচ যারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না আদালত তাদের রিমান্ড দিচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় দেশে শাসন ব্যবস্থা কেমন চলছে।
দেশ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখনো মানুষ তার মৌলিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। বর্গীদের মতো আওয়ামী লীগ এসেছে এদেশ থেকে সবকিছু লুট করতে। সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে এখন যে দুর্নীতি তা কল্পনাও করা যায় না। এ অবস্থায় দেশকে বাঁচাতে রুখে দাঁড়াতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে। কোনো আপস-মীমাংসা হবে না। প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধিদের সরকার গঠনের সুযোগ দিতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল আরো বলেন, আগামী দিনে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের সাথে লড়াই করবার জন্য নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। সেই সাথে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেন করতে পারি সেজন্য এই রমজানে আল্লাহর কাছে দোয়া চাইব। কিছু দিনের মধ্যে খুশির বার্তা নিয়ে ঈদ আসবে। আল্লাহ্ যেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেন দেশে ফিরে এসে নেতৃত্ব দিতে পারেন, দলীয় নেতাকর্মীরা যেন মামলা থেকে রেহাই পান, গুম হয়ে যাওয়া নেতাকর্মীরা যেন ফিরে আসেন এবং যাদের হত্যা করা হয়েছে তাদের পরিবারে যেন শান্তি পায় সেই সুদিনের অপেক্ষা করব।
তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, এদেশের মানুষ এখন কঠিন সময় পার করছে। দল পুনর্গঠন করতে গিয়ে দলকে বিভক্ত করা যাবে না। অযোগ্যদের নেতৃত্বে আনলে দলের ক্ষতি হবে তাই যোগ্যদের নেতৃত্বে আনতে হবে। দলের অঙ্গসংগঠনগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে বলেও জানান তিনি।