আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিশরের বিমান সংস্থা ইজিপ্ট এয়ারের বিমান ছিনতাইয়ের নেপথ্যে কাহিনি জানা গেল ছিনতাইকারী মুখে। ছিনতাইকারীর দাবি, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের দেখার জন্যই বিমান ছিনতাই করেছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ছিনতাইকারী সাইফ আল-দিন মোস্তফা সাইপ্রাস পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের ২৪ বছর ধরে দেখতে পান না, কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান, তবে মিশর সরকার তাকে বাধা দেয়, তখন তার কিইবা করার থাকে?’
মঙ্গলবার মিশরের উপকূলীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়া থেকে রাজধানী কায়রো যাওয়ার পথে ইজিপ্ট এয়ারের এমএস১৮১ নম্বর ফ্লাইটের বিমানটি ছিনতাই করেন মুস্তাফা। ভুয়া আত্মঘাতী বেল্ট এবং তা বিস্ফোরণের ভুয়া রিমোট দেখিয়ে সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে বিমান অবতরণ করাতে বাধ্য করেন তিনি।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলে ছিনতাই নাটক। চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন বিমানের আরোহী ও তাদের স্বজনরা। মিশর সরকার ও সাইপ্রাস সরকারও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। অবশেষে মুস্তাফার আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে শেষ বিমান ছিনতাই ও জিম্মি নাটকের।
বুধবার নারনাকার একটি আদালত মুস্তাফাকে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। ছিনতাই, অপহরণ, সহিংসতার হুমকি, সন্ত্রাসী কাজের সম্পৃক্ততা এবং বিস্ফোরক রাখার সন্দেহে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার আদালত থেকে বের হয়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠার পর জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে ভি চিহ্ন অর্থাৎ বিজয় চিহ্ন দেখান তিনি।
এদিকে ৫৬ বছর বয়সি ছিনতাইকারী মুস্তাফাকে মিশরের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছে মিশর কর্তৃপক্ষ। মিশরের তার বিচার হলে কঠোর সাজার মুখোমুখি হতে পারেন মুস্তাফা। কারণ বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিশরের পর্যটন খাত। মিশরের আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন খাত।
