শাড়ি-কাণ্ডের বিতর্কের মধ্যেই নতুন আইনি জটিলতায় পড়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ, ভুল তথ্য প্রচার ও মানহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করেছেন সানায়া আনাম ওয়াফিকা চৌধুরী। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেনের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ২১ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায়। তিনি জানান, এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে বাদীর করা দুটি পৃথক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা দায়েরের পর প্রতিহিংসার জেরে গত ২৭ অক্টোবর তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাদীকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছেও বাদী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বছরের ৭ নভেম্বর তানজিন তিশা তার ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে বাদীকে ফোন করে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘ফেমাস হইলে বইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবো নে। ’

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর বাদীর অজান্তে একজন নারীকে চুম্বনের একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন তিশা। একই পোস্টে দুই নাবালক শিশুর ছবিও দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাদীকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশের অভিযোগও আনা হয়েছে। ওই পোস্টে তিশা লিখেছিলেন, ‘সেখানে এ দুজন এক কেন? এই দুই বোনের মিলিত হয়ে এত ঘৃণা কেন? একজনকে তো মামলা আগে দেখিওনি।’

বাদীর ভাষ্য, ২৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে বিষয়টি তার নজরে আসে। পরদিন আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে দুই দিনের মধ্যে আপত্তিকর ছবি ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলো অপসারণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।

এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা এবং নিজের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি মামলা করেছেন—এমন কটূক্তি করার অভিযোগও মামলায় আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী।