মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, তিনি যদি ব্যালটে থাকতেন, তাহলে তার দল রিপাবলিকান পার্টি বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করত।

ট্রাম্প নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বললেও, রিপাবলিকানদের পরাজয়ের সব দায় দলীয় নেতাদের ওপর চাপিয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি ব্যালটে ছিলাম না, আর যদি থাকতাম তাহলে আমরা বিশাল ব্যবধানে জিতে যেতাম। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য ধন্যবাদ।”

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ৮০ বছর বয়সি ট্রাম্প বারবার রিপাবলিকান ভোটারদের বলেছিলেন, “ভেবে নাও আমিই ব্যালটে আছি।” বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে সেটাই ট্রাম্পের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ ভোটাররা হাউস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে তুলে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অস্থিরতা, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শুল্ক নীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধ- যা জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে- এসব বিষয় নিয়েই মূলত ক্ষুব্ধ ছিলেন ভোটাররা।

২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয় মেনে না নেওয়ার রেকর্ড থাকলেও, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কিছুটা নমনীয় সুর শোনা গেছে ট্রাম্পের মুখে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি পুরোপুরি সেই ফলাফল মেনে নিতে প্রস্তুত। আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব এবং, বুঝতেই পারছেন, তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশায় আছি। আমরা সম্ভবত কোনো একটা সমঝোতায় পৌঁছে যাব।”

তবে ডেমোক্র্যাটদের আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়ার কঠোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। নিজের ট্রেডমার্ক লাল মাগা ক্যাপের একটি ছবি পোস্ট করে তার নিচে কেবল ‘ভেটো’ শব্দটি জুড়ে দেন ট্রাম্প।

পাশাপাশি, রিপাবলিকানরা কেন হেরেছে তার কারণ ব্যাখ্যা করতে নিজে ‘রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ’ হয়ে উঠবেন বলে জানান ট্রাম্প। তার প্রথম ক্ষোভের শিকার হন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট, যিনি ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসার কাছে হেরে গেছেন। ট্রাম্পের দাবি, অ্যাবট যদি দলের নাম ভাঙানো সুবিধাবাদী না হতেন, তাহলে হারতেন না।

এদিকে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা হাউস ও সিনেটের রিপাবলিকান প্রার্থীদের যোগ্যতার ওপরও প্রশ্ন তুলেছেন।

হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা বলেন, “প্রার্থীর যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রার্থীরা নিজেদের যতটা প্রচার করতে পেরেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার চেয়ে অনেক ভালো প্রচার করেছেন।”

কর্মকর্তা আরো ইঙ্গিত দেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নীতিতে হয়তো আরো কঠোর অবস্থান নেবেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আজ যারা ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়েছেন, ইরান সংঘাতের সমাধান হওয়ার পর যখন দ্রুত তেলের দাম কমে যাবে কিন্তু তাদের ঘাড়ে ওই চরমপন্থি ডেমোক্র্যাটদের তালিকা থেকেই যাবে, তখন তাদের মনে তীব্র অনুশোচনা তৈরি হবে।”

হোয়াইট হাউস তার রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার একটি অন্ধকার ইঙ্গিতও দিয়েছে। ওই কর্মকর্তার বলেন- “এখানে একটি শেষ কথা: আজকের দিনটি যেমনই হোক না কেন, উগ্র বামপন্থিদের থামানোর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংকল্প আরো দৃঢ় হতে চলেছে। প্রস্তুত হয়ে যান।”

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি