পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুদিনের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর আক্রমণে মিরপুর থানায় একটি মামলায় ৩ হাজার অজ্ঞাত আসামি, গ্রেপ্তার ৬ জন।
পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, পল্লবীতে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও সরকারি কাজে বাধায় তিনটি মামলায় প্রতিটিতে ২ হাজার থেকে ২৫০০ অজ্ঞাত আসামি, গ্রেপ্তার ১৬ জন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।
ডিবি পুলিশ বলছে, শ্রমিকদের আন্দোলন কাজে লাগিয়ে সহিংসতার পরিকল্পনা করেছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে বড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। আটকদের মধ্যে ১১ জন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, তারা স্থানীয় কারখানার শ্রমিক নন, বিভিন্ন জেলা থেকে এসে জড়ো হয়েছিলেন।
এদিকে সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ এর সেনপাড়া পর্বতা এলাকার গলি দিয়ে শ্রমিকরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া ও কয়েকটি টিয়ারশেল ছোড়ে। প্রশিকা মোড় এলাকায়ও একই চেষ্টা হলে পুলিশ হটিয়ে দেয়। রূপনগর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে শ্রমিকরা প্রশিকা মোড়ের দিকে আসেন।
টানা বিক্ষোভের পর সোমবার সকাল থেকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান, জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
সোমবার সচিবালয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্পমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা ব্যক্তি জড়িত, তাদের ভিডিও-অডিও প্রমাণ আছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত শ্রমিকরা নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট চাইবে না বলে সরকার বিশ্বাস করে।
এর আগে রোববার সকাল ৮টায় শ্রমিকরা মিরপুর-১০ মোড় অবরোধ করেন। বেলা সোয়া ১১টায় সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানেগ্যাস ব্যবহার করে, শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। দুপুরে মিরপুর-১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রো স্টেশন ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ ছিল। শনিবারও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরে যান চলাচল বন্ধ ছিল।