নতুন জাতীয় বেতন স্কেল (নবম পে-স্কেল) অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের নিয়ম ঠিক করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ সালের আগে ও পরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে অর্থ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন বলা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যাদের চুক্তির মেয়াদ ওই তারিখের পরও বহাল রয়েছে, তাদের চুক্তি সংশোধন সাপেক্ষে নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুযায়ী তাদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
এ ছাড়া চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী তারা বর্ধিত হারে বেতন পাবেন।
তবে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সুবিধা এর বাইরে থাকবে। চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য অন্যান্য ভাতাও দেওয়া হবে।
অবসরের আগের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় বেতন
১ জুলাই ২০২৬-এর পর যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাদের ক্ষেত্রে অবসরের অব্যবহিত আগে জাতীয় বেতন স্কেলের যে গ্রেড ও ধাপে মূল বেতন পেতেন, নতুন বেতন স্কেলে সেই গ্রেড ও ধাপের বেতন বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে নির্ধারিত বিধান অনুসারে বর্ধিত হারে বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বেতন অথবা সরকার ও নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতিতে চুক্তিতে নির্ধারিত বেতনই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে নির্ধারিত বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোট পেনশন (কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের অঙ্ক) এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন, যদি থাকে, বাদ দেওয়া হবে না।
ইনক্রিমেন্ট ও আনুতোষিক পাবেন না
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, আনুতোষিক কিংবা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নন, এমন ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি নিয়োগের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করে চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ আগের নির্দেশনা বহাল থাকবে। বেতন-ভাতা বিষয়ে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলোও চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।