‘আমার বিবেক আমাকে বিচারকের আসনে থাকতে দিচ্ছে না’ — এই কথা লিখে পদত্যাগ করেছেন পাকিস্তান হাইকোর্টের পরিচিত বিচারপতি মোহসিন কায়ানি। বুধবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি ২৬তম ও ২৭তম সংবিধান সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেন, এসব পরিবর্তন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নির্বাহী বিভাগের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ ও বিচারকদের নিয়োগ-বদলিতে হস্তক্ষেপ জনআস্থা ক্ষুণ্ন করেছে।
কায়ানি বলেন, যে ব্যবস্থার উদ্দেশ্য বিচার নিশ্চিত করা, সেখানে বিচারপ্রার্থীদের প্রয়োজনই উপেক্ষিত হচ্ছে। তাই তিনি আইন পেশায় ফিরে মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে চান।
গত বছর নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি সৈয়দ মনসুর আলী শাহ, আতহার মিনাল্লাহ এবং লাহোর হাইকোর্টের বিচারপতি শামস মাহমুদ মির্জা একই কারণে পদত্যাগ করেন। কায়ানির পদত্যাগে সংখ্যা দাঁড়াল চারে।
২০১৫ সাল থেকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে দায়িত্বে থাকা কায়ানিকে গত ২৯ এপ্রিল লাহোর হাইকোর্টে বদলি করে ১২ নম্বরে নামিয়ে দেওয়া হয়। ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হওয়ার আলোচনায় থাকা কায়ানি এই বদলি চ্যালেঞ্জ করলেও সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখে। পরবর্তীতে তাকে কোনো ডিভিশন বেঞ্চে রাখা হয়নি।
বিচার বিভাগে সেনা হস্তক্ষেপ নিয়ে সরব কায়ানি ২০২৪ সালের মার্চে গোয়েন্দা সংস্থার বিরুদ্ধে চাপ, আত্মীয় অপহরণ ও নজরদারির অভিযোগ তুলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে চিঠি দেওয়া ৬ বিচারপতির একজন ছিলেন।