দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। ইংলিশ ফুটবলে ফিরল ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফি। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন জিতেছেন ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর। দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তৃতীয় হওয়া বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পেলেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়ামে বসে ফুটবল বিশ্বের জমকালো এই অনুষ্ঠান। ১৯৫৬ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউস। সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন। এবার আসলো হ্যারি কেইনের হাত ধরে।
২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেয়েছেন কেইন। জার্মান জায়ান্টদের ১৪ মৌসুমে ১৩তম বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে ছয়টি গোল করেন এই স্ট্রাইকার। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে এনে দিয়েছে ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।
পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি, আর পঞ্চম স্থানে জায়গা পেয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে নিজের অর্জনের মুকুটে তৃতীয় পালক যোগ করেছেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস। বার্সেলোনার হয়ে নিজের শেষ মৌসুমে ২৪ গোলের পাশাপাশি ১৩টি অ্যাসিস্ট করেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে ২০২৫-২৬ মৌসুমে চারটি শিরোপা জেতে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগ, লিগা এফ, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও কোপা দে লা রেইনা। পরে ইংল্যান্ডের ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসেসে যোগ দেন পুতেয়াস।
ব্যালন ডি’অর জিততে না পারলেও খালি হাতে ফিরতে হয়নি ইয়ামালকে। টানা তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন কোপা ট্রফি। অনূর্ধ্ব-২১ বর্ষসেরা ফুটবলারের এই পুরস্কার জয়ের পথে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে ২৪ গোলের পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করেন ১৯ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকা।
নারীদের বিভাগে কোপা ট্রফি জিতেছেন বার্সেলোনার ভিকি লোপেজ। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।
পুরুষদের বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনেই বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এ লড়াইয়ে পিএসজির লুইস এনরিকে ও আর্সেনালের মিকেল আর্তেতাকে পেছনে ফেলেছেন স্পেনের এই কোচ।
নারীদের বর্ষসেরা কোচ হয়েছেন বার্সেলোনার পেরে রোমেউ। তার অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের ২৯টিতেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। পুরো মৌসুমে দলটির গোল ব্যবধান ছিল ১২১।
বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি পেয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন তিনি। বিশ্বকাপে স্পেনের আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন এই গোলরক্ষক।
নারীদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন কাতা কোল। লিগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করার পাশাপাশি ১১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রেখেছেন বার্সেলোনার এই গোলরক্ষক।
মানবিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সক্রেটিস পুরস্কার পেয়েছেন আর্সেনালের ইংলিশ তারকা বুকায়ো সাকা। নারীদের বিভাগে বর্ষসেরা ক্লাব নির্বাচিত হয়েছে বার্সেলোনা। পুরুষদের বিভাগে এই পুরস্কার জিতেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপসেরার মুকুট জেতার স্বীকৃতি পেয়েছে ফরাসি ক্লাবটি।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পাশাপাশি পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও জিতেছেন হ্যারি কেইন। গোল করার অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নারীদের বিভাগে গার্ড মুলার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান ফুটবলার তিনি।