ফুটবল মাঠে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি আগেই পেয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ জিতলেন আর্জেন্টাইন এই ফুটবল কিংবদন্তি। বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
গত জুনে মেসিকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করে বিচারকমণ্ডলী। সে সময় তাকে ‘সর্বকালের অন্যতম সফল ফুটবলার’ হিসেবে প্রশংসা করা হয়। ফুটবলে তার অসাধারণ অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
স্পেনের উত্তরাঞ্চলীয় আস্তুরিয়াস অঞ্চলের রাজধানী ওভিয়েদোতে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। মেসির আগমন ঘিরে সেখানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ব্যাগপাইপ ও ঢোলের সুরে তাকে স্বাগত জানানো হয়। আর্জেন্টিনার জার্সি পরা কয়েক ডজন সমর্থক প্রিয় তারকাকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বারবার তার নামে স্লোগান দেন।
স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী রাজকন্যা লিওনর মেসির হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তার নামেই প্রবর্তিত এই সম্মাননার অংশ হিসেবে মেসিকে দেওয়া হয় একটি পার্চমেন্ট স্ক্রল।
অনুষ্ঠানে মেসির ফুটবলীয় দক্ষতা ও দলীয় মানসিকতার প্রশংসা করেন রাজকন্যা লিওনর। তিনি বলেন, অসাধারণ কীর্তিকে প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত করেছেন মেসি। খেলার গতিপ্রকৃতি বুঝে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে তার। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে সব সময় দলীয় চেতনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
১৯৮১ সালে প্রবর্তিত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারকে অনেক সময় ‘স্প্যানিশ নোবেল’ বলেও অভিহিত করা হয়। পুরস্কারটির সঙ্গে রয়েছে ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা। শিল্প, বিজ্ঞান, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান এবং সহাবস্থান, সংহতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মেসি ছাড়াও পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্রিটিশ লেখক জুলিয়ান বার্নস, মার্কিন নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ এবং পাঙ্ক সংগীতের কিংবদন্তি প্যাটি স্মিথ।
ক্রীড়া বিভাগে এর আগে এ পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন দৌড়ের কিংবদন্তি এলিউদ কিপচোগে এবং মার্কিন স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।
ফুটবলে বিশ্বকাপজয়, একাধিক ব্যালন ডি’অর এবং ক্লাব পর্যায়ে অসংখ্য শিরোপার পাশাপাশি শিশুদের কল্যাণে কাজের স্বীকৃতি মেসির অর্জনের তালিকায় এবার যুক্ত হলো স্পেনের এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা।