চার দিনের অবরোধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শেষে পর্যটকদের জন্য আবারো উন্মুক্ত হয়েছে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর প্রথম দিন শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সাত শতাধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন। পর্যটকদের আগমনে স্থবিরতা কাটিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা পরিবর্তন করে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় বাঘাইহাট সেনা জোনের বিশেষ নিরাপত্তা স্কটে পর্যটকেরা সাজেকের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতের প্রধান পথ খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক। এ পথে নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সাজেক জিপগাড়ির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত বলেন, শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি জিপ, মাহিন্দ্র ও মোটরসাইকেলে করে সাত শতাধিক পর্যটক সাজেকে এসেছেন। বিকেলের নিরাপত্তা স্কটেও আরো পর্যটক আসবেন এমনটি আশা করছেন তারা।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, কয়েকদিন পর্যটক না আসায় পাহাড়ের পর্যটন খাত ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যাপ্ত পর্যটক এলে সাম্প্রতিক ক্ষতির বড় একটি অংশ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ বুকিং শুরু হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে
যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটকেরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। দুর্গাপূজার জন্য অবরোধ ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।