জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি শৌর্য দীপ্ত সূর্য জানান, একদল লোক জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলা চালায়। এ সময় বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যানার নিয়ে একদল নারী-পুরুষ বাসার সামনে অবস্থান নেন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর তারা বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।

হামলার সময় বাসায় ছিলেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, সকালে নাশতা করার সময় হঠাৎ চারদিক থেকে বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া শুরু হয়। সকাল হওয়ায় তখন বাসায় তেমন কেউ ছিলেন না। ইটপাটকেলের আঘাতে জানালার কাচ ভেঙে ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাসার ফটকে তালা লাগানো থাকায় হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে জি এম কাদের বলেন, তিনি বাসার ভেতরে থাকায় হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পারেননি।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, বেলা ১১টার দিকে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে জি এম কাদেরের বাসায় হামলার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তবে ততক্ষণে হামলাকারীরা চলে গিয়েছিল।

ওসি বলেন, সাধারণ জনতার ব্যানারে ৩০ থেকে ৪০ জন ওই বাসায় হামলা চালান। তারা বাইরে থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর করেন। তবে কেউ বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।

এদিকে, জি এম কাদেরের বাসভবনে হামলার অভিযোগ করেছে জাতীয় পার্টি। সোমবার দুপুরে দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে একদল দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় পরবর্তী করণীয় পরে জানানো হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী জানান, সকালে একদল মানুষ মিছিল নিয়ে দলের চেয়ারম্যানের বাসভবনের সামনে আসেন। তারা বাসা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে জানালার কাচ ভেঙে যায়। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।