নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ না করায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ভেতরে রেখেই উপাচার্য ভবনের ফটকে আবারো তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর ভবনটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা করে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এর আগে, দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। সময়সীমা পার হওয়ার পর ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ভবনের ফটকে তালা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার সকাল থেকেই চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর আগে, সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে তিনি উপাচার্য ভবনে নিজের কার্যালয়ে যান।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। তবে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এত দিন সরাসরি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।

এদিকে, ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। চলমান আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।