কোনো দেশ বা পক্ষকে খুশি করতে নয়, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই বোয়িং বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো চুক্তি করার আগে সেটির ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা এবং দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনগত কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করার পরই চুক্তির পথে এগোনো হয়। ফলে এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন হলে এয়ারবাসের পাশাপাশি বোয়িংয়ের সঙ্গেও ব্যবসা করতে কোনো দ্বিধা নেই। যে কোনো অর্থনৈতিক খাতে দেশের স্বার্থে ব্যবসায়িকভাবে যৌক্তিক সুযোগ পাওয়া গেলে সরকার তা বিবেচনা করবে
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন হলে এয়ারবাসের পাশাপাশি বোয়িংয়ের সঙ্গেও ব্যবসা করতে কোনো দ্বিধা নেই। যে কোনো অর্থনৈতিক খাতে দেশের স্বার্থে ব্যবসায়িকভাবে যৌক্তিক সুযোগ পাওয়া গেলে সরকার তা বিবেচনা করবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক আরও গভীর হবে আশা প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এয়ারবাসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির পরও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ বিমানকে আধুনিক, প্রতিযোগী ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এভিয়েশন খাতে বিমানকে অন্যতম সেরা আকাশ পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৩ সাল নাগাদ প্রথম উড়োজাহাজ এবং পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০৩৬ ও ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এয়ারবাস বিমানের বহরে যুক্ত হবে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় চারটি দূরপাল্লার আর ছয়টি আঞ্চলিক রুটের উড়োজাহাজ দেবে এয়ারবাস। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪ তে। বর্তমানে আছে ১৯টি।