শিশুদের প্রতিভা বিকাশে সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে সারাদেশে ২২ লাখ শিশু ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এখান থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। তিনি বলেন, একটি পরিবারের ভিত্তি যেমন সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে, তেমনি দেশের ভিত্তি মজবুত হবে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে পারলে।
তিনি ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন করে চালুর কথা জানান। সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম পর্যন্ত ক্রীড়া আয়োজন করা হবে। ২০২৭ অথবা ২০২৮ সাল থেকে স্কুল পর্যায়ে শিশুরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী গান, বাদ্যযন্ত্র ও খেলাধুলা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশু একাডেমির কার্যক্রম শুরুর সময় তিনিও শিশু হিসেবে সেখানে এসেছিলেন। ‘শিশু’ ম্যাগাজিনে তার ও তার ছোট ভাইয়ের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল।
শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি তোমাদের কাছে পড়ালেখার কথা বলব না। তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে। কেউ ছবি আঁকে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করে, কেউ গান-নাচ বা বাদ্যযন্ত্র পছন্দ করে — প্রত্যেকের ভেতরে কোনো না কোনো গুণ আছে। যারা গিটার, কি-বোর্ড, হারমোনিয়াম, বাঁশি পছন্দ করে তাদের ভালোভাবে শেখা উচিত, যারা কেরাত ও কোরআন তেলাওয়াত পছন্দ করে তাদেরও তা সুন্দরভাবে রপ্ত করা উচিত।

শহরের পাশাপাশি গ্রামের শিশুরাও যেন সুযোগ পায়, সেজন্য স্কুল পর্যায় থেকেই এই সুবিধা তৈরির কাজ গুছিয়ে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, মান্দারিন, জার্মান, জাপানিজসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষার মধ্য থেকে একটি ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে শিশুরা।
সবশেষে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের প্রকৃতি ও পশুপাখির প্রতিও মানবিক হতে হবে।