যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে এসে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের যেকোনো পরিকল্পনা ইরান ‘প্রায় ছেড়েই দিয়েছে’। প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল এই পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম চড়া ছিল। তবে তেলের বাজার নিয়ে স্বস্তির কথা জানিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তেলের দাম কমতির দিকে রয়েছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (৩ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যে একটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউজ ছাড়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “তেলের দাম কমছে। বর্তমানে তেলের দাম বেশ নিচে নেমেছে- এমনকি জো বাইডেন প্রশাসনের আমলেরও চেয়েও কম। অথচ তারা (বাইডেন প্রশাসন) কখনোই আমলে নেয়নি যে ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।”

তিনি আরো বলেন,  “যাই হোক, আপনারা জানেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যেকোনো পরিকল্পনা প্রায় বাদই দিয়ে দিয়েছে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিযোগ ইরান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে। গত মাসে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন।

পেজেশকিয়ান সেসময় বলেন, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণেই তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে আগ্রহী নয়। এমনকি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অধীনে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কমিয়ে ফেলার প্রস্তাবও দিয়েছিল তারা।

তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে তারা তাদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের ছাড় দেবে না কিংবা কাঠামোগত কোনো সমঝোতায় যাবে না।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি