মিঠি নদীর পলি অপসারণ প্রকল্পে কথিত অনিয়মের ঘটনায় বলিউড অভিনেতা দিনো মোরিয়াকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মুম্বাই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওডব্লিউ)। শুক্রবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও এ মামলায় দিনো মোরিয়া ও তার ভাই সান্তিনো রোকো মোরিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে দিনো মোরিয়ার যোগাযোগের তথ্য ফোন রেকর্ডে পাওয়ার পর তাকে তলব করা হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তদন্তকারীরা মামলার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে মোরিয়ার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দিনো মোরিয়া ও তার ভাই সান্তিনো রোকো মোরিয়া এবং গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত কেতন কাদমের স্ত্রী পুনিতা কাদম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইউবিও রাইডজ প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক ছিলেন। কেতন কাদম ও সান্তিনো রোকো মোরিয়ার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কেতন কাদমের পলি অপসারণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়োডার ইন্ডিয়া এলএলপি কীভাবে মুম্বাইয়ের স্থানীয় সংস্থার কাজের চুক্তি পেয়েছিল, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এ মামলায় কেতন কাদমকে গত ৭ মে গ্রেফতার করা হয়। মিঠি নদীর পলি অপসারণ প্রকল্পে বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে (বিএমসি) ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ রুপি ক্ষতি করার অভিযোগে মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডারের মূল্য বাড়িয়ে দেখানো এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে ইওডব্লিউ ভার্গো স্পেশালিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড নামের মুম্বাইভিত্তিক শিল্পপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত জয়েশ জোশিকেও গ্রেফতার করেছে।
তদন্তকারীরা জানান, ২০২০ সালের অক্টোবরে বিএমসির কয়েকজন কর্মকর্তা পলি অপসারণের সরঞ্জাম কিনতে কেরালার কোচিতে ম্যাটপ্রপ টেকনিক্যাল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডে যান। পরে পলি অপসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে যে যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন দেওয়া হয়েছিল, তা ম্যাটপ্রপের সরঞ্জামের সঙ্গে মিলে যায়। এর ফলে ঠিকাদারদের ওই প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
দরপত্রে বলা হয়েছিল, নদী থেকে অপসারণ করা পলি ও ড্রেজের ওজনের ভিত্তিতে বিএমসি ঠিকাদারদের অর্থ পরিশোধ করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঠিকাদাররা ম্যাটপ্রপের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের জয়েশ জোশি ও কেতন কাদমের কাছে যেতে বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগসাজশ করে সরঞ্জাম বিক্রি না করে অতিরিক্ত ভাড়ায় ঠিকাদারদের সরবরাহ করতেন।
মিঠি নদীর ১৭.৮৪ কিলোমিটার অংশের পলি অপসারণে অনিয়মের অভিযোগে বিজেপি নেতা প্রসাদ লাড ও প্রবীণ দারেকর অভিযোগ তোলার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ইওডব্লিউ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।
ইওডব্লিউ কর্মকর্তারা জানান, নদী থেকে অপসারণ করতে হবে এমন পলির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখাতে স্থানীয় সংস্থার নথিপত্রে কারসাজি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর ফলে ঠিকাদারদের অপসারণ করা পলির পরিমাণের ভিত্তিতে বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।