জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, গ্রামে গিয়ে কখনো যদি শুনি ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ২০০ বা ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, তাহলে এলাকায় কে দায়িত্বে ছিল তাকে খুঁজে বের করব। আইনজীবী হিসেবে নিজে বাদী হয়ে মামলা করব, ওয়াদা রক্ষা করব।
তবে আমি চাই না এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার বলেছিল চার কোটির ঊর্ধ্বে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে হেল্প কার্ডও আসবে।
তখন আমি বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বলেছিলাম, কার্ডগুলো হাতে নিয়ে কেউ যেন কখনো একটা টাকাও নিতে না পারে।
কায়সার কামাল বলেন, গত দেড় দশকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমাজ অনেক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছে। কলমাকান্দার লেংগুরায় এমনও হয়েছে, বিল্ডিংওয়ালা মানুষের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। তার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ঈশ্বরগঞ্জে, সেই মেয়ের নামেও ফ্যামিলি কার্ড হয়েছে।
এরকম কিছু অনিয়ম হয়েছিল। সে কারণে আমরা নিয়মের মধ্যে আসার চেষ্টা করছি।
দুর্গাপুরের ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দুর্গাপুরে যখন ফ্যামিলি কার্ডগুলো আসবে, তখন ১০ জন সুপারভাইজার এবং ৯৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী কাজ করবেন। আপনাদের এই ৯৭ জন এবং ১০ জনের ওপর নির্ভর করবে আমার ঈমানি দায়িত্বটা পালন হচ্ছে কিনা।
কায়সার কামাল আরো বলেন, আপনারা দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তথ্যগুলো সংগ্রহ করবেন।
শুরু করবেন কুঁড়ে ঘর অথবা ঘর নেই এমন ছাপরা ঘর থেকে। আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে উঠবেন। হয়তো অনেক বাধা আসতে পারে, তবে কোনো বাধা মানবেন না। আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তাকে হাজির-নাজির করে নিজেদের মেধা ও সততা দিয়ে নামগুলো লিপিবদ্ধ করবেন।
কারণ এই কাজের জন্যই আপনাদের মেধার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এই দুর্গাপুরে একজনও দরিদ্র মানুষ যেন ফ্যামিলি কার্ড থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই দায়িত্বটি আপনাদের। আশা করছি আপনারা ঈমানের সঙ্গে দায়িত্বটা পালন করবেন।
মতবিনিময়সভায় উপজেলা পরিষদ সোমেশ্বরী হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাতের সভাপতিত্বে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার তারেক হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূইয়াসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।