জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নিবন্ধন ও তথ্য সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করতে নিবন্ধন ফরম ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে নাগরিকদের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং এনআইডি ডেটাবেজের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইসি সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্যবস্থায় বাবা-মায়ের এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে তাদের তথ্য আবেদনকারীর নিবন্ধনের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হবে। এতে নামের বানান ভুলের মতো সমস্যা কমবে বলে মনে করছে কমিশন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের তথ্য সংযুক্ত করে একটি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সে প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় নাগরিকের ভাই-বোনের নাম ও জন্মনিবন্ধন নম্বরও যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে একটি পরিবারের সদস্যদের তথ্য একটি কাঠামোর মধ্যে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
পরবর্তী সময়ে কোনো নাগরিক এনআইডির তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট তথ্য পরিবারের অন্য সদস্যদের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা যাবে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, এতে ভুল বা অসঙ্গত তথ্য শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সংশোধনের প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে। এ ছাড়া কারো একাধিক স্ত্রী থাকলে সন্তানের এনআইডিতে সংশ্লিষ্ট মায়ের নাম যুক্ত করার বিষয়টিও নিবন্ধন ব্যবস্থায় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কিছু জটিলতা দূর করার জন্য ফরম ও সফটওয়্যারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিশেষ করে বাবা-মায়ের তথ্য সরাসরি তাদের এনআইডির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বারকোডে যাচাই, বিবেচনায় রেটিনা স্ক্যান
এনআইডির সত্যতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য কার্ডে বারকোড ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে ইসি। স্মার্টফোন দিয়ে ওই বারকোড স্ক্যান করে কার্ডধারীর ছবি ও মৌলিক তথ্য যাচাই করা যাবে এমন ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে।
এদিকে প্রবীণ বা শারীরিক পরিশ্রমে যুক্ত—যাদের আঙুলের ছাপ স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না, তাদের জন্য বিকল্প বায়োমেট্রিক পদ্ধতি হিসেবে রেটিনা স্ক্যানের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এনআইডি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডার্কওয়েব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশেষ মনিটরিং সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা বলেন, ডার্কওয়েব পর্যবেক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। তথ্য ফাঁস ঠেকাতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পাশাপাশি আরো কিছু কারিগরি ও আইনি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।