ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একইসঙ্গে অভিবাসী অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব শাখার এক সমাবেশে এসব প্রস্তাবের কথা জানান ডানপন্থি এই প্রধানমন্ত্রী।

আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনে অভিবাসন একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেলোনি জানান, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থীর ‘স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে’, তাদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে।

তিনি বলেন, “যে কেউ ইতালিতে এসে ভবিষ্যৎ গড়তে চাইলে তাকে আমাদের ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং নিয়ম মানতে হবে। অভিবাসীদের স্বাগত জানানোর এটিই একমাত্র উপায়।”

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ডানপন্থি সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকার। তবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটিকে আগামী নির্বাচনে আরও বেশি ডানপন্থি ‘ন্যাশনাল ফিউচার’ (এফএন) পার্টির কাছে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে জরিপে এই পার্টিটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এফএন পার্টি গত জুলাইয়ে স্কুলগুলোতে বোরকা পরার ওপর কড়াকড়ি আরোপের আহ্বান জানিয়েছিল।

মুখ ঢাকা সংক্রান্ত আইন

বোরকায় চোখসহ পুরো ‍মুখ ঢাকা থাকে। নিকাবও অনেকটা একই রকম, তবে এতে চোখ দেখা যায়। ইতালিতে এই দুই ধরনের পোশাকের ওপর সুনির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়, যা পরিচয় শণাক্তকরণকে কঠিন করে তোলে।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের একটি রায়ে স্পষ্ট করা হয় যে, পরিচয় যাচাইয়ের সময় মুখ খোলা রাখা সাপেক্ষে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢাকা পোশাক পরা যেতে পারে।

তবে মেলোনির ক্ষমতাসীন জোটের শরিক কট্টর অভিবাসনবিরোধী ‘লীগ’ পার্টি চলতি বছরের শুরুতে একটি বিল জমা দেয়, যাতে ক্রীড়া ইভেন্ট বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বোরকা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মেলোনি ক্লাসে বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর আইন সীমা নির্ধারণের কথা বলেছেন।

তবে ইতালীয় আইনে ইতিমধ্যে প্রতি ক্লাসে এবং স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ৩০ শতাংশের একটি সীমা রয়েছে। এতে কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা স্পষ্ট করেননি মেলোনি।

বর্তমানে ইতালীয় স্কুলগুলোতে মোট ভর্তির প্রায় ১২ শতাংশই বিদেশি শিক্ষার্থী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতেই মেলোনির এই কড়া অবস্থান। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো সরকারের অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হতে হলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সংসদীয় অনুমোদন লাভ করতে হবে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা