আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেলে নজরুল ইসলাম (৩০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কারখানাটির সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করতেন।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকের এই দুর্ঘটনার পর তাকেসহ আরও ৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসাধীন রাত সাড়ে ১০টায় মারা যান নজরুল।

চিকিৎসাধীন বাকি ৩ জন হলেন কাঁচামাল বিক্রেতা সুজন মিয়া (২৫), তার বাবা মুখলেস মিয়া (৪৫)।

অপরজন গাড়িচালক দগ্ধ নুর ইসলাম (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান।

নিহত নজরুলের ছেলে সামিউল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার আবুডাঙ্গা গ্রামে। বর্তমানে আশুলিয়া শিমুলতলায় থাকেন।

ওই কারখানার সামনে পেঁয়াজ-রসূন বিক্রি করেন তার বাবা নজরুল ইসলাম। দুর্ঘটনার পর তিনি খবর পেয়ে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে গিয়ে তার বাবাকে দেখতে পান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।

আহত মোখলেস জানান, বাবা-ছেলে আশুলিয়ার জামগড়া প্রীতি গ্রুপের পোশাক কারখানার সামনের রাস্তায় কাঁচামাল বিক্রি করেন।

সন্ধ্যায় কারখানার ভিতরে বিকট একটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে বিভিন্ন লোহার জিনিসপত্র, ইটপাটকেল,গ্লাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সে গুলোই মাথায় এসে পড়ে সুজনের। আর হাতে আঘাত পান তিনি (মুখলেস) নিজেও। সেখান থেকে আশপাশের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।

দগ্ধ নুর ইসলামের ভাগিনা মো. মাসুদ জানান, নুর ইসলামের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। তবে থাকতেন ভোলাতে। গ্যাস পরিবহনের গাড়ি চালান তিনি। বিস্ফোরণে তার সারা শরীর পুড়ে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, আশুলিয়ার ঘটনায় মোট চার জনকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। এদের মধ্যে নজরুল নামে একজন মারা গেছে। আহতদের মধ্যে ২ জন ক্যাজুয়ালিটি ও ১ জন বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস ঢাকা জোন-৪ এর উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান।  তিনি জানান, কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাকি দুইজনের মধ্যে নিহত সালমা নামের এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান, অন্যজন বুলবুল- তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।