জীবনের মায়া সাঙ্গ করে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন সান্দ্রো মাজ্জোলা। ৮৩ বছর বয়সে মারা যান ইতালির ফুটবল কিংবদন্তি।

নিজেদের ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারের মৃত্যুর খবর আজ নিশ্চিত করেছে ইন্টার মিলান।

মাজ্জোলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইন্টার মিলান বিবৃতিতে লিখেছে, ‘সান্দ্রো মাজ্জোলা শুধু ইন্টার মিলানের ইতিহাসেই নন, ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ফুটবলার ছিলেন। ছিলেন ইন্টারের ইতিহাসের সমার্থক। ছোটবেলায় যোগ দেওয়ার পর কখনো ক্লাব ছেড়ে যাননি।’

১৮ বছর বয়সে জুভেন্টাসের বিপক্ষে অভিষেক হয় মাজ্জোলার। তার অভিষেকের দিন স্টেডিয়ামে দর্শকদের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশের কারণে বিতর্কের সৃষ্টি হলে ম্যাচটি পুনরায় হয়। পেনাল্টিতে ৯-১ ব্যবধানে হারের সেই ম্যাচে ইন্টারের একমাত্র গোলটি করেছিলেন তিনিই। তুরিন যাওয়ার আগে স্কুলের পরীক্ষা শেষ করেছিলেন মাজ্জোলা।

সেই ম্যাচের উদাহরণ টেনে মাজ্জোলা সম্পর্কে ইন্টার লিখেছে, ‘গোঁফওয়ালা সেই তারকা মাঠে যেমন উজ্জ্বল ছিলেন, আজও তেমনই আছেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, তার একটাই শেষ ইচ্ছা—তাকে যেন একজন ভালো মানুষ হিসেবে মনে রাখা হয়। এমন একজন ব্যক্তি, যিনি জয় অসম্ভব জেনেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান, ঠিক যেমনটি তিনি করেছিলেন সেই ৯-১ গোলের ম্যাচ।’

দীর্ঘ ১৭ বছরের পুরোটা সময় ইন্টার মিলানে কাটিয়েছেন মাজ্জোলা। দলের হয়ে ৫৬৬ ম্যাচে গোল করেছেন ১৬২টি।

নেরাজ্জুরিদের হয়ে চারটি সেরি আঁ শিরোপা এবং দুটি ইউরোপীয় কাপ জিতেছেন। ১৯৬৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ইউরোপীয় কাপের ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। পরের বছরও দলকে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জয়ে অনবদ্য অবদান রাখেন।

ইতালির হয়ে ১৯৬৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেন মাজ্জোলা। এ ছাড়া ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনালেও ছিলেন তিনি। ইতালির হয়ে ৭০ ম্যাচে করেছেন ২২ গোল। অ্যাসিস্ট করেছেন ৫টি।

১৯৭৭ সালে অবসর নেওয়ার পর ইন্টার মিলান ও তুরিনো—উভয় ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাজ্জোলা।

বাবা ভ্যালেন্টিনো মাজ্জোলাও ফুটবলের কিংবদন্তি। ১৯৪৯ সালে মর্মান্তিক সুপেরগা বিমান দুর্ঘটনায় মাজ্জোলার বাবাসহ তুরিনোর পুরো দলটির খেলোয়াড়-কোচরা প্রাণ হারান। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৬ বছর। তুরিনোর অধিনায়ক ছিলেন ভ্যালেন্টিনো।