জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির তিন নেতা এবং যুবলীগ ও ছাত্রলীগের চার শীর্ষ নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার জন্য এই দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৮ আগস্ট মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
বিচারকাজ চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের মাধ্যমে বা অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশও চাওয়া হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্কে বলা হয়, জুলাই গণআন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে ছাত্র-জনতা হত্যার চূড়ান্ত নীলনকশা ও পরিকল্পনা করা হয়। ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া অডিও ও ভিডিও ফুটেজে সেই ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট প্রমাণ উঠে এসেছে।
প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালকে আরও জানায়, আন্দোলন চলাকালে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলির যে বিতর্কিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তার সরাসরি বাস্তবায়ন করেছিলেন ওবায়দুল কাদের। এই নির্দেশেরই নৃশংস পরিণতিতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শত শত নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়।