ব্যবসা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ইউএনবিকে এ তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এ সময় রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই উপকৃত হবে।

দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও একই ধরনের বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ফুটবলসহ অন্যান্য ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে পাকিস্তানের উদ্যোক্তারা আগ্রহী।

এ বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ার কথা উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দুই শহরের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এছাড়া বাংলাদেশে উৎপাদিত চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে ইমরান হায়দার বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশ থেকে চা রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় জানিয়ে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনিময় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন।

ইমরান হায়দার বাংলাদেশে তার কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি তাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।