মুক্তিযুদ্ধের সময় যে কণ্ঠ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ছড়িয়ে দিয়েছিল, সেই কণ্ঠ থেমে গেল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবু রায় আর নেই।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে একটি হাসপাতালে স্ট্রোকজনিত সমস্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শিবু রায়ের পরিচয় শুধু স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কণ্ঠশিল্পীর পাশাপাশি তিনি ছিলেন সুরকার। দীর্ঘদিন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন। তার প্রয়াণে সংস্কৃতি অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের আবহ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিবু রায়। স্বাধীনতার পরও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘ পথচলায় নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন শিবু রায়। তার কণ্ঠের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সাংস্কৃতিক সংগ্রামের স্মৃতি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে শিল্পী হিসেবে তার দীর্ঘ কর্মজীবনও তাকে সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ করে তোলে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। এছাড়া, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ঘিরে রয়েছেন।

শিবু রায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী, শিল্পী ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। তার দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রয়াত এই শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। একইসঙ্গে, তার পরিবারের প্রতি জানিয়েছেন গভীর সমবেদনা।

একজন শিল্পীর চলে যাওয়া মানে শুধু একটি জীবন থেমে যাওয়া নয়, কখনো কখনো হারিয়ে যায় একটি সময়ের জীবন্ত স্মৃতিও। শিবু রায়ের কণ্ঠের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের সেই স্মৃতি তাই তার প্রয়াণের পরও শ্রোতা ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মনে বেঁচে থাকবে।