ফিলিপাইনে পশ্চিমাঞ্চলীয় সমুদ্র উপকূলে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮৭ জন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোমি কায়াব্যাব স্থানীয় একটি রেডিও দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, এমভি জুন এস্টার নামের ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। এটি পালাওয়ান প্রদেশের করোন এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে হঠাৎ আগুন ধরে যায়।

তিনি আরও জানান, ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য। এ পর্যন্ত ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান থাকায় নিখোঁজ ৮৭ জনের সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে। বোর্ডে কোনো বিদেশি নাগরিক ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, পুড়তে থাকা ফেরিটির আশপাশে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


উদ্ধারকর্মীরা জানান, খারাপ আবহাওয়া এবং সমুদ্রের বড় ঢেউয়ের কারণে উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন ঘটছে। দুর্ঘটনার সময় ফেরিটি তুর্দা গ্রামের ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে বিপদসংকেত পাঠিয়েছিল, তবে প্রবল স্রোতের টানে সেটি প্রায় ৭ দশমিক ৬৮ নটিক্যাল মাইল দূরে ভেসে যায়।

আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিস্তারিত কারণ জানতে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিপিং কোম্পানি ও সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জে ফেরি যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে ঝড়ো আবহাওয়া, জাহাজের ত্রুটিপূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা বিধিমালা কঠোরভাবে কার্যকর না করার কারণে দেশটিতে নৌ দুর্ঘটনা বিরল নয়।

১৯৮৭ সালে মধ্য ফিলিপাইনে জ্বালানি ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘ডোনা পাজ’ নামের একটি ফেরিডুবিতে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা শান্তিকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌ দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: এনবিসি নিউজ