যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের দ্বারা অভিযানে ইলেকট্রিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এই গ্লাভস ব্যবহারের সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকি ও অমানবিকতার কথা তুলে ধরে ডেমোক্রেটিক পার্টির দুজন আইনপ্রণেতা এই পদক্ষেপ নেন। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) তাদের অভিবাসন কর্মকর্তাদের জন্য এই বিতর্কিত ডিভাইসটি কেনার পরিকল্পনা করার পরই বিলটি আনা হলো।
গত ৩ সেপ্টেম্বর পেনসিলভেনিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন এবং ইলিনয়ের ডেলিয়া রামিরেজ যৌথভাবে ‘নো Shock অ্যাক্ট’ (No Shock Act) নামের এই বিলটি ঘোষণা করেন। বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো ফেডারেল, রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের যেকোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় এই ইলেকট্রিক শক গ্লাভস ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখা।
১ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের প্রজেক্ট:
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আইসিই কর্মীদের জন্য প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ব্যয়ে ৬,০০০টি ইলেকট্রিক শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা করছে। কেনটাকি-ভিত্তিক কোম্পানি ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’-র তৈরি এই বিশেষ গ্লাভসটি (যার নাম CTG-5 G.L.O.V.E.) সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এসে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা বা শক দিতে সক্ষম। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ এবং পরিস্থিতি শান্ত করার হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করলেও মানবাধিকার কর্মীরা এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে করছেন।
মানবাধিকার ও নিরাপত্তার উদ্বেগ:
প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই ডিএইচএস-কে (DHS) এই ইলেকট্রিক শক গ্লাভস এবং মানুষের আকস্মিক মৃত্যু ঘটানোর মতো ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস করা যায় না। এই নিষ্ঠুর যন্ত্রের ব্যবহার ঠেকাতে আমরা এই বিল এনেছি।’ অন্যদিকে প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন অভিযোগ করেন, এটি জবাবদিহিতা ছাড়াই মানুষকে আরও বেশি কষ্ট দেওয়ার একটি হাতিয়ার।
এছাড়াও, প্রায় ৫০ জন আইনপ্রণেতা ডিএইচএস সেক্রেটারিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ৩৮০ ভোল্টের এই ইলেকট্রিক শক দেওয়ার প্রযুক্তিটি সরাসরি ‘টর্চার বা নির্যাতন বিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন’-এর লঙ্ঘন।
পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক বিতর্ক:
ডিএইচএস (DHS)-এর একজন মুখপাত্র এই বিলের তীব্র সমালোচনা করে একে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, আইসিই কর্মকর্তারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এবং মাঠপর্যায়ে অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসীদের নিরাপদে গ্রেপ্তারের জন্য সব ধরনের আইন মেনেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার মূল্যায়ন করা হচ্ছে।