জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাস্তি পাওয়া ২০ কর্মকর্তার দণ্ড মওকুফ করা হয়েছে। মার্জনা চেয়ে করা আপিল আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় তাদের শাস্তির আদেশ বাতিল করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন পর্যায়ের এসব কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে আলাদা আলাদা আদেশ জারি করেছে আইআরডি।
রাজস্ব খাতের সংস্কার আন্দোলনের সময় বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা, আন্দোলনে সংগঠকের ভূমিকা পালন এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কেউ সাময়িক বরখাস্ত, কেউ বেতন গ্রেড অবনমনসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি পান।
দণ্ড মওকুফ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল এবং রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
আইআরডির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাস্তিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মার্জনা চেয়ে আপিল আবেদন করেন। সেই আবেদন বিবেচনা করে রাষ্ট্রপতি দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ জারির পর এর বিরোধিতা করে প্রায় দেড় মাস আন্দোলন করেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুনের শেষ দিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শুল্ক ও কর কার্যালয়ে টানা কয়েক দিন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আদায়ে চাপে পড়ে।
এনবিআরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সারা দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়ে একযোগে অবস্থান কর্মসূচি, মিছিল-সমাবেশ ও কর্মবিরতি পালিত হয়। পরে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করা হলেও আন্দোলনের জেরে বরখাস্ত, বদলি ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত বছরের ২৪ শে জুন জাতীয় রাজস্ব ভবনের প্রবেশ পথে অবস্থান করে বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে তারা “সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯” লংঘন করেছে।
ওই আন্দোলনের সময় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয় অবরুদ্ধ রাখা হয় এবং সারা দেশে দুইদিনের কর্মবিরতি পালন করা হয়। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি স্থবির হয়ে গিয়েছিল।
পরে তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন এবং তাকে সংস্থার কার্যালয়ে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন। সেই দাবিতে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন।
এমন প্রেক্ষাপটে এনবিআরের সেবাবে ‘অত্যাবশকীয়’ সেবা বলে ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। সংকট পাঁচ উপদেষ্টাকে নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
পরে ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যস্থতায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে কাজে ফেরেন। কিন্তু এরপর তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করে সরকার। সেই সময় ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও অনুসন্ধান করেছিল দুদক।
পরে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল এনবিআর। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত, এবং বেতন গ্রেড অবনমনও রয়েছে।