আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুণীজন সংবর্ধনায় তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনো হানাহানি নয়, সংঘর্ষ নয়, আলোচনার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করতে হবে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করতে পারলে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি তা রক্ষা করতে চাই, সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। মানুষের অভাব দূর করা, শিক্ষার উন্নয়ন, ছেলেমেয়েদের চাকরি ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের বিভেদ নয়, সবাই বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে অধিকার নিয়ে বাঁচবে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও পিছিয়ে পড়া দরিদ্র এলাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণায় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার অনেকগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হয়েছে, কাল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গা ঠিক হয়েছে, আগামী বছর থেকে ভর্তি শুরু হবে। ভুল্লী ও রুহিয়া আলাদা উপজেলা হয়েছে, ইউএনও যোগ দিয়েছে।
বিমানবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর হলে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ হবে, তবে টিকিয়ে রাখতে কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। এখানে শিল্প-কারখানা নেই, মানুষ কাজ পায় না। অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রী এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ আনতে চেষ্টা চলছে। চীনা রাষ্ট্রদূত ৬ হাজার শিশুকে স্কুল ব্যাগ দিয়েছেন, ১০ শিক্ষার্থী ও ৫ শিক্ষককে চীন সফর করিয়েছেন। চীন থেকে বিশেষজ্ঞ এসে কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা দেখবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, চাকরি ও ঠিকাদারির পেছনে না দৌড়ে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জীবনের বিনিময়ে হলেও স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যান তিনি। পূর্বনির্ধারিত সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হেলিপ্যাডে অবতরণের কথা থাকলেও পৌঁছান বেলা ১টায়। সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার নেন, সেনুয়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। বিকালে বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। হঠাৎ বৃষ্টি নামলেও মানুষের উচ্ছ্বাস থামেনি। শহর ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোয় সাজানো হয়।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সফর ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।