হলমালিকদের অবহেলা ও বলিউডের অসহযোগিতাকে পেছনে ফেলে বক্স অফিসে অবিশ্বাস্য সাফল্য পেয়েছে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘হনুমান অংশ’। ৭ আগস্ট মুক্তির পর বড় বাণিজ্যিক ছবির চাপে স্ক্রিন কমে গেলেও দর্শকের ভালোবাসায় ছবিটি এখন ৭৫ কোটি রুপির আয়ের দোরগোড়ায়। মাত্র ২ কোটি বাজেটের ছবিটির এই সাফল্যের পর ইন্ডাস্ট্রির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিচালক বিশাল।

‘দ্য রৌনক পডকাস্ট’-এ তিনি জানান, মুক্তির শুরুতে ৩৫০টির বেশি শো নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘হনুমান অংশ’। বড় রিলিজের কারণে দ্রুত স্ক্রিন কমিয়ে দেওয়া হয়। পিভিআর ও আইনক্সের মতো মাল্টিপ্লেক্স শো চালাতে দ্বিধা করে। ২৫০টি শো থেকে তা নেমে আসে মাত্র ২৫টিতে।

বিশাল বলেন, ইন্ডাস্ট্রি নয়, দর্শকই ছবিটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। শো কমে যাওয়ায় হতাশার মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ‘তুমি কাজ করে যাও, বাকিটা আমি দেখব’ বার্তা তাকে অনুপ্রাণিত করে। প্রচারণার বদলে তিনি অভিনেতা শোভিনভ সত্যা ও সংগীত পরিচালক ঋষি পাঠককে নিয়ে সরাসরি দর্শকের কাছে যান।

স্বাধীনতা দিবসের আগের শুক্রবার সুরাটে একটি শো চলাকালীন তারা হলে হাজির হন। নির্মাতাদের দেখে দর্শকের উচ্ছ্বাস ও কান্না দেখে হলমালিক অবাক হন এবং সঙ্গে সঙ্গে অন্য হলমালিকদের ফোন করে শো বাড়িয়ে দেন। এরপর ভাদোদরা ও আলিগড়সহ বিভিন্ন শহরের হল ও মন্দির প্রাঙ্গণে দর্শকের সঙ্গে দেখা করেন তারা। আলিগড়ে শো যোগ করার ১৫ মিনিটের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়।

একই সময়ে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপান ২’ ও ‘বাটোয়ারা’র মতো বড় বাজেটের ছবির সঙ্গে লড়াইয়ে বলিপাড়ার কারও সমর্থন পাননি বলে অভিযোগ করেন বিশাল। তিনি বলেন, বিপদে যাদের কাছে সাহায্য চেয়ে পাননি, সফলতার পর তারাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন। মধুর ভাণ্ডারকর নিজে থেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যার কাছে তিনি সাহায্য চাননি। যারা বিপদে সরে গিয়েছিলেন, তাদের নাম প্রকাশ করতে চান না তিনি।

বলিউডের পরিবেশকে অগোছালো ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ জানেন না কোন কাজ সফল হবে, তবুও জ্ঞান দিতে ভালোবাসেন।