কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় সৌদি আরবের একটি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুই নাবিক নিহত হয়েছেন। নিহত দুজনই ফিলিপিনের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি ‘বাহরি’।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এই হামলার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে বহুজাতিক ওই সৌদি প্রতিষ্ঠান। তবে হামলায় জাহাজের সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ বা বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী ব্রিটিশ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, সংকটপূর্ণ ওই প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির তেল ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি অজানা ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল এই সংকীর্ণ জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করায যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুমকি আগেই দিয়েছিল ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
সৌদি কোম্পানি বাহরি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজে থাকা অন্য কর্মীদের নিরাপত্তায় তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক খাতের আন্তর্জাতিক অংশীদার ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে সম্প্রতি সৌদি মালিকানাধীন জাহাজে আক্রমণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর মাত্র এক মাস আগে ওমান উপকূলের কাছাকাছি হরমুজ প্রণালিতে বাহরির ‘ওয়াদিয়ান’ নামের একটি সুপারট্যাংকার হামলার মুখে পড়েছিল।
এ ছাড়া লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর বাহরির ‘আমজান’ ও ‘মাসা’ নামের আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। একের পর এক এসব আক্রমণের ঘটনায় আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।