বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও দুর্নীতি না করার জন্য শপথ করিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।
তিনি বলেন, ‘আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের কথা দিতে হবে—আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো অন্যায় করব না, অত্যাচার করব না, অবিচার করব না এবং আওয়ামী লীগের মতো দুর্নীতি করব না। আমরা সৎভাবে জীবনযাপন করব। আমাদের হাত দ্বারা কোনো ভাই যেন কষ্ট না পায়— এই শপথ আমাদের নিয়ে যেতে হবে।’
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে কুমিল্লার মুরাদনগর সদর বড় মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ বলেন, বিগত ১৭ বছর আমরা এভাবে দোয়া পড়া তো দূরের কথা, একসঙ্গে বসে কথাও বলতে পারতাম না। আল্লাহ আমাদের একসঙ্গে বসে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছেন। আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই তাদের জনপ্রিয়তা শেষ হয়ে যায়। অত্যাচার, জুলুম ও নির্যাতনের কারণে জনগণ তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল-মিটিংয়ের শেষে দোয়া মাহফিলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ আল্লাহর কাছে চাইব। আল্লাহ চেয়েছেন বলেই এই আওয়ামী লীগকে সরিয়ে আমাদের ক্ষমতায় এনেছেন। আল্লাহ আমাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্ত করে দেশে এনেছেন, আপনাদের দোয়ায় ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন এবং আল্লাহর মেহেরবানিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ যেন তাকে হেফাজত করেন। তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের ছেলে, তার মাতা এ দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার সিদ্ধান্তগুলো যেন বাস্তবায়ন করতে পারেন, সেই দোয়া করবেন।’
তারেক রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ‘এ দেশের মানুষের কল্যাণে ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন, যাজক ও পুরোহিতদের জন্য ভাতার উদ্যোগ নিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি তার ব্যক্তিগত দূরদর্শী চিন্তাভাবনা থেকে এগুলো করেছেন।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছরে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে সাধারণ মানুষ এখন নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাচ্চাকে মা-বাবা ডাকতে শিখতেও একটু সময় দিতে হয়। আমাদেরও আপনারা একটু সময় দিন। দেশকে স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করতে, গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতেও সময় লাগবে। আওয়ামী লীগ দেশকে ধ্বংসস্তূপে ফেলে রেখে গেছে। সেই অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়াতে আমাদের সময় দিয়ে আপনারা সহযোগিতা করুন।’
নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের উদ্যোগ ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রতি কোনো অত্যাচার করা যাবে না। তারা যেন মাথা উঁচু করে চলাফেরা করতে পারে, সে বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রকম অত্যাচার যেন তাদের প্রতি করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারাও আমাদের ভাই-বোন। তাদের প্রতি অবিচার করা যাবে না। তবে ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দোয়া মাহফিলে পবিত্র কুরআন খতম ও দোয়ায়ে ইউনুস পাঠ করা হয়। পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম, ফারুক সরকার মজিব, শাহ আলম সরকার, মির্জা শহিদুল্লাহ, জহির সিদ্দিকী, দুলাল সরকার, হাজী ইদ্রিস, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন বক্তব্য দেন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা ও সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ।
এছাড়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।