উন্নত বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল কেয়ার অর্থনীতি বা যত্নসেবা খাতকে কাজে লাগিয়ে দেশের যুবশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানের কর্মক্ষম করার পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের সম্ভাবনাময় বাজারকে সামনে রেখে  ৫০ হাজার ১০০ জন যুবক ও যুব নারীকে কেয়ারগিভার হিসেবে গড়ে তোলার বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘দেশের সকল মহানগরীতে শিক্ষিত যুবকদের কেয়ারগিভিং ও ভাষা দক্ষতার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৮৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়েছে। ২০২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ ধরে প্রকল্পটি নকশা করা হয়েছে।

উদ্যোগটির আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে নির্বাচিত ১ হাজার ৯৫০ জনকে সরাসরি জাপানি ভাষাসহ নির্দিষ্ট দেশের উপযোগী ভাষায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশে গমন ইচ্ছুক অন্যান্য প্রার্থীরাও পছন্দনীয় দেশের ভাষা শেখার পৃথক সুযোগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়া অন্তত ৬০ শতাংশ যুবকের দেশ ও বিদেশে নিশ্চিত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

প্রশিক্ষণ কাঠামোর বিশদ তুলে ধরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রিয়সিন্ধু তালুকদার বলেন, প্রচলিত ট্রেডগুলোর বাইরে কেয়ারগিভিং আমাদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক সংযোজন। ন্যূনতম এসএসসি পাস এবং সেবামূলক কাজের প্রতি আন্তরিকতা থাকলে ৩ মাসের এই কোর্সে প্রাথমিক সেবা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা ও দৈনন্দিন সহায়তার খুঁটিনাটি শেখানো হবে। কেয়ার প্রশিক্ষণের পর বিদেশে ইচ্ছুকদের ভাষা শেখানো হবে, যা শতভাগ কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।

গবেষণা অনুযায়ী, নগরায়ণ এবং একক পরিবারের ভিড়ে দেশে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্ন নেওয়ার সামাজিক চাহিদা যেমন দ্রুত বাড়ছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে তৈরি হচ্ছে এক সুবিশাল ক্ষেত্র। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই খাতে ৩০ কোটির বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে ওএসডি প্রতিবেদন জানাচ্ছে, উন্নত দেশগুলোতে প্রতিবছর দক্ষ কেয়ারগিভারের চাহিদা ৫ থেকে ৭ শতাংশ হারে বাড়ছে।

জনসংখ্যার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধা ফুরিয়ে আসার আগেই শহরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব হ্রাস করতে সাহায্য করবে এই স্বল্পমেয়াদি বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ। দেশের ১৩টি মহানগরীর ৫০১টি ওয়ার্ডজুড়ে বিস্তৃত ৩৩টি কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৪টি ব্যাচে প্রার্থীদের এই নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।