কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসে চলন্ত অবস্থায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিম পাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বাসটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহত হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন রামু তুলাতলি ক্রসিং হাইওয়ে থানার দায়িত্বরত ওসি মো. ফজলুল হক।

বাসের যাত্রীদের অভিযোগ, বাসে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পর চালক বা সহকারী যাত্রীদের বিষয়টি অবহিত করে সাহায্যের পরিবর্তে বাস থেকে পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫-৩০ জন যাত্রী ছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়লে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন বাসের জানালার কাচ ভেঙে সব যাত্রীকে বের করে আনেন। স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতার কারণে অলৌকিকভাবে বাসের সব যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

যাত্রী আবদুল আলীম জানান, তারা কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। বাসের ভেতরে প্রথমে পোড়া গন্ধ পান তারা। পরে আগুন দেখতে পান। চালক বা সহকারী আগুন লাগার বিষয়টি যাত্রীদের জানাননি। পরে স্থানীয় লোকজন জানালার কাচ ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন।

যাত্রীদের দাবি, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়- আগুন লাগার পর বাসের ভেতরে চালক ও সহকারী ছিলেন না। তারা যাত্রীদের সতর্ক না করে নিজেদের বাঁচাতে লাপাত্তা হয়ে যান।

রামুর তুলাতলি ক্রসিং হাইওয়ে থানার দায়িত্বরত এসআই মো. ফজলুল হক জানান, ঘটনাস্থলের পাশে আরেকটি দুর্ঘটনা তদারকিতে হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছিল, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় যাত্রীদের নিরাপদে বাস থেকে নামিয়ে আনার পাশাপাশি মালামালও উদ্ধার করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে একই কোম্পানির আরেকটি বাস এনে যাত্রীদের ঢাকায় যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, অবস্থা অবলোকন করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়ার কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক বলেন, ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল বলে কোনো অঘটন ছাড়াই যাত্রীদের বাস থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। একটু দেরি হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারতো।

প্রসঙ্গত, ১৭ আগস্ট কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় কক্সবাজারগামী ‘রয়্যাল কক্স পরিবহন’র একটি স্লিপার বাসেও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও সৌভাগ্যক্রমে সব যাত্রী বাস থেকে নেমে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।