জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর হতো। কিন্তু বিএনপি সরকার মুখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে আগের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাই অনুসরণ করছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রায় ৩৫ বছর পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা চেয়েছিলাম, জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতিতেও যে সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। সে অনুযায়ী গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কার বাস্তবায়ন না করেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করছে। এর ফলে সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেখানে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আমরা আগেও বলেছি, সরকার গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আজ জাতীয় সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে সরকারি দল ও বিরোধী দল দুই পক্ষেরই প্রার্থী রয়েছে। ফলে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত সংস্কার কার্যকর হবে। সেটি না হলেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কারণ আমরা চাইনি সরকারি দল একতরফাভাবে নিজেদের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করুক। জনগণের কাছে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্যই বিরোধী দলের জোট থেকে প্রার্থী দিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
নাহিদ ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব সংসদ সদস্য স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে আজকের যে বৈঠক হচ্ছে, সেটি সংসদের অধিবেশন নয়। এখানে স্পিকার সভাপতিত্ব করছেন না; প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।
সংসদ সদস্যদের ভোটের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছে এবং এটি সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি, সবাই স্বাধীনভাবে ভোট দেবেন।
সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই সরকার বলে আসছে তারা অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আগের ধারারই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়।
তিনি বলেন, যে কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেই ব্যবস্থার ধারাবাহিকতার মধ্যেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হচ্ছেন। তাই আজকের নির্বাচন জনগণের সামনে সরকারের অবস্থানও স্পষ্ট করছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার মুখে জুলাই সনদ, গণভোট ও সংস্কারের কথা বললেও বাস্তবে পুরোনো সাংবিধানিক কাঠামোই ধরে রাখছে। আমরা চাই দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হোক এবং বাকি সংস্কারগুলোও কার্যকর করা হোক।
তিনি বলেন, এনসিপি গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা সেই রাজনৈতিক বার্তাই জনগণের কাছে দিতে চেয়েছি।