বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য, দলের স্থায়ী কমিটি ও মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, দলের রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।”

রিজভী বলেন, “কিছুক্ষণ আগে দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব এবং জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির দুর্দিনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের কাউন্সিলে তাকে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রাম ও ক্লিন ইমেজের কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসি থেকে দুইটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ক্ষমতাসীন বিএনপি। ঢাকার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।