সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বাকীর করেছে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত বাবুল মিয়া ওই বাসায় আগে রঙ মিস্ত্রির কাজ করার সুবাদে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তারের (১৫) সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আজ সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করলে তাহমিনা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে একটি রুমে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
তাহমিনার চিৎকার শুনে বাসার গৃহকত্রী রাইয়া বেগম (৭২) এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সবশেষে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার (৮২) বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাকেও নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে ঘাতক বাবুল। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।
নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুস সাত্তার মিতালি আবাসিক এলাকার প্রথম বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। আব্দুস সাত্তারের এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বাসার ভেতরে নারীদের চিৎকার শোনেন প্রতিবেশীরা। পরে আর কোনো সাঁড়াশব্দ পাননি। সকাল ১০টার দিকে ১১১ নম্বর বাসার দু’তলার বারান্দায় রক্ত দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ তিনটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।