যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার এসংক্রান্ত এক প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি।

১৮৬৮ সালে মার্কিন গৃহযুদ্ধ শেষের পর গৃহীত সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড, জলসীমা ও আকাশসীমায় জন্ম নেওয়া যেকোনো শিশু জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে আসছিল। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতকে আফ্রিকা থেকে ধরে আনা দাসদের সন্তানদের অধিকার সুরক্ষায় ওই সংশোধনী আনা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আইনের সুযোগ নিয়ে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা শুধু সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের। মূলত এই প্রথা বন্ধ করতেই নতুন কঠোর আদেশ জারি করল ওয়াশিংটন।

প্রেসিডেন্টের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার জানান, নতুন এই আদেশের ফলে বিদেশি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এবং অবৈধভাবে নাগরিকত্ব কিনতে আসা সুযোগসন্ধানীরা বড় ধাক্কা খাবে।

নির্বাহী আদেশে সইয়ের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের জন্মগত নাগরিকত্বের এই সুবিধা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চরম তামাশা করা হয়েছে। এই আইনের অসংগত অপব্যবহার বন্ধ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।’

অভিবাসনবিষয়ক মার্কিন গবেষণা সংস্থা দ্য সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সন্তান প্রসবের জন্য অন্তত ২০ থেকে ২৫ হাজার দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে।

অবশ্য ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নতুন করে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০২৫ সালেও তিনি এমন উদ্যোগ নিলে দেশটির দুটি ফেডারেল আদালত তা আটকে দেন। এমনকি গত ৩০ জুন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও ৬-৩ ভোটে ট্রাম্প প্রশাসনের সেই আপিল খারিজ করে সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মাথায় ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউনিডোস ইউএস’-এর নির্বাহী ডেবোরাহ ফ্লেইসচাকার।

তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই প্রথা চলে আসছে এবং মাত্র ৫ সপ্তাহ আগে সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।’