সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক নতুন করে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে ঢাকা ও দিল্লি।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
মন্ত্রী বলেন, ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাই কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি, সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে কথা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কিছু ‘অস্বস্তিকর বিষয়’ রয়েছে, যা নিরসন করা জরুরি। এ বিষয়ে উভয়পক্ষই অবগত।
শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। আগামীতে সব বিষয়েই আলোচনা হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের আমন্ত্রণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানসহ আরও কিছু বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে, সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি ম্যানিলায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই পক্ষই সম্পর্ক জোরদারে আশাবাদী।
মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে ‘অনুসন্ধানমূলক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় সহায়তাদাতা। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং দুই দেশই তা এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কূটনীতিকে ‘জিরো-সাম গেম’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো মানে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়া নয়। বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সবার সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। চীন সফর অত্যন্ত সফল হয়েছে, ভারত সফর হলেও একই ইতিবাচক ফল আশা করা যায়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও বলেন, বৈঠক খুবই ভালো হয়েছে এবং সংস্কৃতি, সংগীত, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।