সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে তিনি বলেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং চরিত্রহননের চেষ্টা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম বেগম এবং মারিয়ামের মামা ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মগবাজারে একটি ব্যবসায়িক অফিসে যান। সেখানে অবস্থানের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের কক্ষে ঢুকে কৈফিয়ত তলব করেন এবং পরে তাদের ব্যাগ ও পকেট তল্লাশি করে এক লাখ টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলেন। পরে রাতে ওই চালক তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাছুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় গাড়ি ফেরত দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিবৃতিতে এমপি আরও দাবি করেন, চালক ওবায়দুল্লাহ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার মধ্যে পূর্ব থেকেই পারিবারিক বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে চালক পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসাতে চেয়েছেন। পরবর্তীতে মাছুম বিল্লাহ পুলিশের সহায়তায় গাড়ি উদ্ধার করেন এবং এ ঘটনায় চালক ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধের হুমকি দেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

গাজী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, ওই চালক আগে থেকেই অফিসকক্ষে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তার দাবি, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার ও তার পরিবারের চরিত্রহননের অপচেষ্টা।

তিনি এ ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার সর্বশেষ নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, সেখানে তার স্ত্রীর সংখ্যা একজন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে এখনও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।