জাতীয় সংসদ ভবনের মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। এ সময় বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, বৃষ্টির দিনে তাঁর নিজের কক্ষের ছাদ থেকেও পানি পড়ে।
তাই তাঁকেও বাটি পেতে ঘরের মধ্যে পানি আটকে রাখতে হয়।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন হুইপ জি কে গউছ।
তিনি বলেন, সংসদ ভবনের ওপরের তলায় থাকা মসজিদে অসংখ্য সংসদ সদস্য জামাতে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু বর্তমানে মসজিদের ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে।
পানি আটকাতে সেখানে সারিবদ্ধভাবে বালতি রাখা হয়েছে। যে সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়, সেই সংসদ ভবনের মসজিদের এমন অবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, সংসদ ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ার বিষয়টি তাঁরও জানা আছে।
তিনি বলেন, ‘কষ্টের কথা কাকে বলব। বৃষ্টির দিনে আমি যখন নিজের ঘরে ঘুমাতে যাই, তখন আমার ঘরের ছাদেও পানি পড়ে। তাই আমাকেও বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখতে হয়।’
ডেপুটি স্পিকারের এ মন্তব্যে সংসদ কক্ষে কিছুক্ষণ হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। ভবনের যেসব স্থানে পানি পড়ছে, সেগুলো মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, চিফ হুইপ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। মন্ত্রী যদি এ বিষয়ে কিছু বলেন, তাহলে সবাই আশ্বস্ত হবেন এবং বৃষ্টির দিনে অন্তত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।
জবাবে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। সংসদ ভবনের যেসব স্থানে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে, সেগুলো সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।’