১৬ দিনও আগেও বিশ্বকাপ খেলেছিলেন জেডেন অ্যাডামস। তবে শেষ বত্রিশ থেকে বিদায় নিয়েছে তার দল। তবে বিশ্বকাপের চলতি আসরের এখনো পর্দা নামেনি। এর মাঝেই মাত্র ২৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাডামস। তরুণ ফুটবলারের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে আফ্রিকার ফুটবল অঙ্গনে।

চলমান বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছিলেন মেমেলোদি সানডাউন্সের এই মিডফিল্ডার। টুর্নামেন্টে দলের তিনটি গ্রুপ ম্যাচেই অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে হারের ম্যাচে একাদশে ছিলেন অ্যাডামস। এরপর চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও শুরুর একাদশে জায়গা হয়েছিল তার।

সবশেষ গত ২৫ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এই মিডফিল্ডার। তবে শেষ ৩২-এর পর্বে কানাডার বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। তাতে বিশ্বকাপ খেলার ১৬ দিন পরেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন জেডেন অ্যাডামস।

তরুণ এই ফুটবলারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়ামন্ত্রী গেইটন ম্যাকেঞ্জি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানতে পেরেছি, মাত্র ২৫ বছর বয়সে মেমেলোদি সানডাউন্স ও বাফানা বাফানার মিডফিল্ডার জেডেন অ্যাডামস আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল তার অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভাকে হারিয়েছে। সম্ভাবনাময় একাডেমি খেলোয়াড় থেকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফুটবলার হয়ে ওঠার যাত্রায় যারা তাকে দেখেছেন, সেই পরিবার, সতীর্থ ও লাখো সমর্থকের সঙ্গে পুরো দেশ আজ শোকাহত।’

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল খেলোয়াড় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে অ্যাডামসের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বলেছে, ‘জেডেন সম্প্রতি ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গর্ব, সাহস ও মর্যাদার সঙ্গে তিনি দেশের মানুষের প্রত্যাশার ভার বহন করেছিলেন। তার মৃত্যু পরিবার, সতীর্থ, ক্লাব, ফুটবল অঙ্গন এবং পুরো দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’

স্টেলেনবোশের যুব একাডেমি থেকে উঠে এসেছিলেন অ্যাডামস। ক্লাবটির একাডেমি থেকে উঠে আসা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার চুক্তিতে সই করেন তিনি। স্টেলেনবোশের হয়ে ১৩৯ ম্যাচ খেলেছেন অ্যাডামস। ২০২৩ সালে ক্লাবটির হয়ে কার্লিং নকআউট শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখেন। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যোগ দেন মেমেলোদি সানডাউন্সে।