টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে কক্সবাজার জেলার অন্তত ৩৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ সব নৌপথ। গত ৪ দিনে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে রোহিঙ্গাসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা ও বন্যাকবলিত নিচু স্থানের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আবদুল হান্নান জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় ২২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল আছে। বৃষ্টি আরও কয়েক দিন চলবে।
এদিন চকরিয়ায় পাহাড়ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন এক নারী।
জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, উদ্ধার, ত্রাণ ও জরুরি সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শুকনো খাবার ও ঢেউটিন মজুত আছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১০ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত। অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি। কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও ঈদগাঁও উপজেলা বিপর্যস্ত।
জেলায় এ পর্যন্ত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। কক্সবাজার শহরের কলাতলী, সুগন্ধা, হোটেল-মোটেল জোন, বাজারঘাটা, তারাবনিয়াছড়া, আলীরজাহাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি।
সাগর উত্তাল থাকায় টানা ৭ দিন টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে সব নৌযান চলাচল বন্ধ। কক্সবাজার-মহেশখালী ও পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথও বন্ধ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরির বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। টইটং, শিলখালী, রাজাখালী, মগনামা, উজানটিয়া, পেকুয়া সদর ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকেছে, পাঠদান ব্যাহত, সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ চলছে।