দুই গোল হজম করেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে শেষ ষোলোর বাধা টপকাল লিওনেল মেসির দল। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সুইজারল্যান্ড বা কলম্বিয়া।
চলতি আসরে প্রথমবার পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। শুরুতেই গোল হজমের পর পেনাল্টি মিসে সমতায় ফেরার সুযোগও হাতছাড়া করে তারা।
১৫ মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর। কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার ক্রসে ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান ইয়াসির ইব্রাহিম।
পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সে তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় তারা। ২১ মিনিটে মেসির বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।
বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় মিস। এর আগে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফার এটি টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। গ্রুপ পর্বে ইরানের তারেমির পেনাল্টিও আটকে দিয়েছিলেন তিনি।
২৮ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড রুখে দেন মোস্তফা। পরে মেসির শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে আলভারেজের শটও ঠেকান মিশরীয় গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণ বাড়ায় আর্জেন্টিনা। মেসির পাস থেকে ডি পলের নিচু শট গ্লাভসবন্দি করেন মোস্তফা। এর মাঝে পাল্টা আক্রমণে হাসানের পাসে জিকো গোল করলেও ফাউলের কারণে তা বাতিল হয়।
৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিশর। বিধ্বংসী কাউন্টার থেকে হাসানের বাড়ানো বলে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জাল কাঁপান জিকো।
হাইড্রেশন ব্রেকের পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৯ মিনিটে প্রথম গোল শোধ করে আর্জেন্টিনা। ডান দিক থেকে মেসির ক্রসে চমৎকার হেডে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। মোস্তফা বাঁ হাতে ঠেকানোর চেষ্টা করলেও পোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে বল লাইন পেরিয়ে যায়। মিশরের অফসাইডের আবেদন টেকেনি।

৮৪ মিনিটে সমতা ফেরান মেসি। জোরালো শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচে লেগে জালে ঢোকে। এটি চলতি বিশ্বকাপে তার অষ্টম গোল। এই গোলে টানা ৯ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের কৃতিত্ব গড়লেন তিনি।
জয়সূচক গোল আসে এর দুই মিনিট পর। দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে লাউতারো মার্টিনেজের ক্রসে কোনাকুনি হেডে বল জালে জড়ান এনজো ফার্নান্দেজ। মাত্র ১৩ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
গোলের বিল্ডআপে ফাউলের দাবি তোলে মিশর। পেনাল্টির আবেদনও করে তারা। এ নিয়ে টাচলাইনে উত্তাপ ছড়ায়।