বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পরই পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। সোমবার শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল। ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত রোনালদো মাঠ ছাড়ার পরই নিজের বিদায়ের কথা জানান মার্টিনেজ।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুদলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমিয়ে তোলে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলেই নিশ্চিত হয় রোনালদোদের বিদায়।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার মার্টিনেজ বলেন, “আমি পর্তুগালে এসেছিলাম বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিয়ে। বিশ্বকাপ জিততে না পারলে দায়িত্বে থেকে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই বলে মনে করি।”

তিনি আরও জানান, “জাতীয় দলের হয়ে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। আমি অত্যন্ত গর্বিত। পর্তুগালে আমি এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি যেন আমিও একজন পর্তুগিজ। এই দায়িত্ব পালন করা ছিল আনন্দের, গর্বের এবং একইসঙ্গে বড় একটি দায়িত্ব।”

মার্টিনেজ বলেন, সোমবারই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের বোর্ড ও সভাপতি নতুন কোচ নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।

বিশ্বকাপের শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনের বিপক্ষে পর্তুগাল সাহসিকতার সঙ্গে লড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রক্ষণে আমরা সাহসী ছিলাম, আক্রমণাত্মক মানসিকতা দেখিয়েছি এবং খুব ভালোভাবে ডিফেন্ড করেছি। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মতো ম্যাচে ছোট ছোট বিষয়ই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।”

“বল পোস্টে লেগে জালে যাবে কি যাবে না, কিংবা ৯০তম মিনিটে দ্রুত নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ—এমন ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলোই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করে দেয়,” যোগ করেন তিনি।

শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেলা রোনালদোর প্রশংসা করে মার্টিনেজ বলেন, “তাকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়, কারণ তিনি ছিলেন একজন আদর্শ অধিনায়ক। শুধু গোলের জন্য নয়, তার পরিসংখ্যানই সব বলে দেয়—অ্যাসিস্টের ক্ষেত্রেও তিনি অসাধারণ অবদান রেখেছেন। প্রতিদিনের অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে তার নিবেদন, ফুটবলকে ঘিরে তার জীবনযাপন—সবকিছুই অনুকরণীয়। তিনি একজন উদাহরণ, এবং আমরা সেটি উদযাপন করতেই পারি।”